Friday, September 28, 2007

Norms of knowledge based society

Norms of knowledge based society

The 'knowledge based society' is a much hyped theory in the west which
yet to be addressed in our country in proper manner. Some of our
intellectually advanced people are a little bit of conscious on the
theory, but in practical field of the theory they are mostly inactive.
In fact, it seems they have no government and private sector supports to
take the latest theory practically at the grass root level.

We should address the precondition and environmental factors and
knowledge dissemination issues properly. Still it is in the state of
concept, but why are we not investing much money and brain in building
the knowledge based society. Some of so-called pundits of our country
are not interested in generating and managing knowledge on long time
basis. They like to see quick outcomes of projects to ensure own profits
and benefits.

They hide intentionally the main theory of practical works that comes
from the west. Some of western thinkers first apply their theories in
developing countries like ours. There is some benefit for a few people
here to conduct guinea pig test over our society and citizens. We need
knowledge-based economy in the context of Bangladesh on the basis of our
aboriginal knowledge and the economy will solve our problems for
furthering advances.

Science and technology are the course of encompassing economic growth.
Stocks of knowledge are now capable of being stored in computer hard
disc or in huge placed server. This knowledge is being disseminated
across the world through the Net. Information technology is the force
placing urgency in the society for establishing knowledge-based society.
A society can see its enormous growth with the proper dissemination of
knowledge; it does not a matter what wealth and natural resources the
society is keeping in its possession. In the nearest future people and
society will be measured by knowledge instead wealth and money.

The new economics is one of the buzzwords in the world after the advent
of info-tech. We need many researches on how we can get a
knowledge-based society. The new economic phenomena leaves vital
questions as to how to generate the knowledge for the public welfare and
what will be the easiest way for accessing the essential knowledge.

E-governance is in the business papers of some people who appointed
lobbyists for getting e-governance businesses from our government. They
are just happy in making websites, to get tender to provide computers
and network solutions. Intention of building a knowledge-based society
is absence from their minds. Only they are eager for business and
e-governance projects. Over 70 per cent IT projects of our government is
failed either for inefficiency or corruption.

We are frustrated to see no constructive plan for knowledge based
society is coming from our intellectuals. None of our social thinkers
and hi-tech analysts has yet come up with a roadmap for establishing a
knowledge-based society. The well-known idea is- if we do not have
prerequisite infrastructure of ICTs and comprehensive power of
information, the knowledge-based society would not be built here.

E-governance is not just including modern management mechanism; it also
creates transparency among the government's administration rules that is
why donor bodies are insisting to replicate the process of e-governance
from the Western world. International business companies are not
interested for business if our business firms do not maintain e-commerce
websites. So soon we may see a kind conventional e-governance here that
will eventually go against the main idea of e-governance and
knowledge-based society. A kind of blame will be placed on these due to
project failure and corruption. Our government officials will claim we
have modern managing systems like e-governance, but our citizens will
see no benefits from the adopting e-governance.

Now there are many dissimilarities among the government websites,
interoperability is neglected; in fact, this jargon is completely new to
our government officials. Government websites are poorly developed and
maintained.

Prerequisite of knowledge-based society is gathering information and
generating knowledge on the basis of the information. We still do not
have sufficient knowledge for the anticipated society. The knowledge in
the Bangla language is not sufficient for building knowledge based
society. There is almost nothing about Bangla e-governance for the
native speakers, except a few websites and some computing software,
which have been criticising because of not being up to the standard. We
cannot convert our own knowledge so quickly into English and commoners
do not have required English knowledge to take help from the western
knowledge based economy. Even better ICT infrastructure cannot do
anything for building a knowledge-based society when we do not have
sufficient and relevant knowledge. Information is worthless without
dissemination system and such information cannot generate knowledge for
the commoners. Dissemination of knowledge in proper way and to right
people is essential for building a true knowledge based society.

Shahidul K K Shuvra

The Independent
27 September

The writer is Editor of IT and science pages
8911919 (res)
Cell- 01715245459
http://www.theindep endent-bd. com

Thursday, August 16, 2007

৯/১১-র একদিন আগে

এসেই জল ছুঁয়েছি তোমার শীতলতা পাবো বলে

বাতাসে ডুবে ছিলাম ম্যালা সময়, তোমার ছোঁয়া পাবার আশায়।

এলোমেলো পায়চারি

দিনভর জটিল সব বেঁকাতেরা সমীকরণ

চা পরটা ঝিনুকের মালা

কাগজ-কলমের বিরতিহীন গড়াগড়ি, এই আর কি।

দেয়ালের ওপর কংকর ঘষে ঘষে মানবতার সন্ধান

ফের লুকিয়ে যাওয়া

আমি সৌখিন-একটু আলতা, ক্লিন সেভ

কাট কাট বাবু বিবি

রাশভারী গলা- সময়কে কিন্তু লাগাম টানতে হবে হে।

মাথামুন্ড কিচ্ছু নাই

আমার কি দোষ

আমি শুধু বলেছি- সবার মধ্যে একটা কাপুরুষ থাকে

এবং কাপুরুষমার্কা মানবদেরও ডাক নাম মানুষ।

কান্ডজ্ঞানহীন না হলে এমন করে কেউ বলে

নাকি,সত্য না হলে এমন করে কেউ ক্ষেপে।

আর হাঁ, সাগর দেখতে একবারও যাইনি

কারণ তুমি কখনোই সাগরের মত বিশাল ছিলে না।

অথচ, সাগর দেখতে তুমি এখনো ভালোবাস।

হালকাহন

একদিন সন্ধ্যে বেলা আকাশের নীলাভ দেখে
আমার পাখি হতে ইচ্ছে করেছিল।
যদি পাখি হতাম তাহলে নীল আকাশে দিনমান ঘুরে বেড়াতে পারতাম।

একদিন সাতসকালে ঠান্ডা ঝিরঝিরে বাতাস গায়ে মেখে
আমার শিশির হতে ইচ্ছে করেছিল।
যদি শিশির হতাম তাহলে ভোরের শীতল শিশির সূর্যøান করতে পারতাম
আমৃত্যূ।

আজকে আবার ভিন্ন ইচ্ছে হচ্ছে
যদি মাছি কিংবা কোনো পতঙ্গ হতাম তাহলে তোমার গালের
ভয়ংকর সুন্দর টোল’টা ছুঁয়ে দেখতে পারতাম
কিংবা
যদি পানি হতাম তাহলে তোমার আটপৌঢ়ে আসা যাওয়ায় গাল
ধুয়ে নিতে, তাতে যদি একবারও তোমার টোলের সৌন্দর্য্য
আমি পাই তাও-বা কম কিসে।

তবে বৃষ্টি হতে পারলেই ভালো হতো বেলা-অবেলায়
তোমাকে ভিজিয়ে দিতাম টোল ছুঁয়ে দেখবার অজুহাতে।

কিন্তু আমার দরিদ্রভাগ্য
আমি এর কিছু হতে পারলাম না।
তাই বলে কী তোমার আশ্চার্য্য সুন্দর টোল আমার ছুঁয়ে দেখা

হবে না। দুর ছাই, ছুঁয়ে দেখা নাই-বা হলো
তুমি হাসতে থাক আমি তোমার গালের টোল দেখি।
আর কী করব?অন্তত: ঢোক গিলতে থাকি \

প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন : সংস্কারের নামে শিশুদের মগজ ধোলাই


সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন ও এর গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যে দীর্ঘ মেয়াদী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তার মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি সংস্কার ও নবায়ন অন্যতম। কথাগুলো প্রথম শ্রেণীর বাংলা বইয়ের ভূমিকায় লেখা রয়েছে। এছাড়াও প্রাথমিক স্তরের প্রতিটি শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ের মুখবন্ধে লেখা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বয়স, মেধা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে প্রতিটি বইয়ের বিষয়ব¯দ যেন আকর্ষণীয়, জীবন ভিত্তিক ও সমকালীন চাহিদা উপযোগী হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কিšদ বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক পাঠ করে এবং ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক অভিভাবক ও পেশাজীবীদের সাথে আলাপে দেখা যায় পাঠ্যপুস্তকের প্রারম্ভে ভূমিকা অংশের বক্তব্যের সাথে পাঠ্যসূচির অনেক অমিল রয়েছে। তাছাড়া নতুনভাবে প্রণীত পাঠ্যক্রম ছাত্রছাত্রীদের বয়স, মেধা, যোগ্যতা, আর্থ সামাজিক অবস্থার সাথে অনেক অবাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।শিক্ষার বিষয়ব¯দকে শিক্ষার্থীর বয়স মনস্তাত্বিক বিচার, ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কের ধরণ ও অবস্থা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, ছাত্রছাত্রী প্রতিনিধি সমন্বয়ে আলোচনা সাপেক্ষে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করলে এ সকল সমস্যার সমাধান করা অনেকাংশে সম্ভব।
পাঠ্যক্রম কী: বানদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু ননী গোপাল মজুমদার বলেন, পাঠ্যক্রম একটি পদ্ধতি জাতি গঠনের জন্যে একজন নাগরিককে কোন পর্যায়ে কতখানি জ্ঞান বা ধারণা প্রদান করবে তার যে পদ্ধতি তাই মোটা দাগে পাঠ্যক্রম নামে অভিহিত। ফলাহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র নুসরাত জাহান রক্সী পাঠ্যক্রম বলতে বুঝে প্রত্যেক বইয়ের সূচিকে। গঙ্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাঈন উদ্দিন বলেন, দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একটি জাতি গড়ে তোলাই শিক্ষার লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্যে পৌছানোর মূল সিঁড়ির নামই পাঠ্যক্রম বা পাঠ্যসূচি।
যে কারণে পাঠ্যক্রম: একটি দেশের একটি জাতির অতীত, বর্তমান, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত করেই একটি জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হয়। আর এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রধান যোগানদাতা শিক্ষা। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে পাঠ্যক্রম। একটি জাতি সম্পর্কে, বিষয় সম্পর্কে একজন ছাত্র কোন শ্রেণীতে কতখানি জানবে শিক্ষার্থীর বয়স, মনস্তাত্বিক বিচার, বিশ্লেষণ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অবস্থান ইত্যাদি মাথায় রেখে একটি সফল পাঠ্যক্রম। তাই শিক্ষার মূল লক্ষ্যে পৌছতে পাঠ্যক্রম বাঞ্চনীয়। আর একটি সফল পাঠ্যক্রমের উপরই শিক্ষার সফলতা ব্যর্থতা নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন গঙ্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাঈন উদ্দিন।
পাঠ্যক্রমের বর্তমান হালচাল: বানদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি এটিএম সামছুল হক বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা অরাজকতা বিরাজমান। প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যক্রম, পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যপুস্তকের ক্ষেত্রে চলছে বহুমাত্রিক ধারা। সরকার চালিত বিদ্যালয় সমূহের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যক্রম বোর্ড (এনসিটিবি), মাদ্রাসাসমূহের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, আবার এনজিও এবং কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয় সমূহের পাঠ্যক্রম প্রণীত হয় তাদের নিজস্ব ধ্যান ধারণার উপর।
প্রথম পাঠ্যক্রমের ইতিকথা: পাঠ্যক্রম প্রণয়ন একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা। প্রাথমিক স্তর থেকে বেরিয়ে একটি ছাত্রছাত্রী যত শিক্ষিতই হোক না কেন তাদের যে চেতনা, তাদের যে মূল্যবোধ তা মূলতঃ প্রাথমিক স্তর থেকে ভিত লাভ করে। আমাদের দেশে প্রথম পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে ব্রিটিশরা। বেশ কয়েকবার পাঠ্যক্রম বদল হলেও বর্তমানে আমাদের পাঠ্যক্রমের আদল কিছুটা ব্রিটিশ প্রণীত পাঠ্যক্রমের মধ্যেই রয়ে গেছে। ব্রিটিশ পাঠ্যক্রম প্রণয়নের সময় একটি বিশেষ পরিকল্পনা মাথায় রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে।মিঃ ম্যাকলে নামক এক বৃটিশ নাগরিক সর্বপ্রথম পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে। বৃটিশরা চেয়েছিল আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে অফিস আদালতের কেরানী হবে এবং সে পরিকল্পনা মাথায় রেখেই মিঃ ম্যাকলে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। এ পাঠ্যক্রম প্রণয়নে তারা এমনভাবে খেয়াল রেখেছিল যাতে কেউ বড় কর্মকর্তা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে এ পাঠ্যক্রম রপ্ত করে। এভাবে বৃটিশরা আমাদের দেশের নাগরিকদের শিক্ষিত করে তোলে। ঘটনার কালক্রমে বৃটিশরা আমাদের দেশ থেকে চলে যায়, তারপর পাকিস্তান শাসনামল, বর্তমানে আমরা একটি স্বাধীন দেশের মানুষ। অথচ আমাদের পাঠ্যক্রম এখনো বৃটিশ প্রণীত পাঠ্যক্রমের মাঝেই আটকে রয়েছে।
যেমন পরিবর্তিত পাঠ্যক্রম: ‘বিগত এক দশকে সার্বিক পাঠ্যক্রম বদল হয়েছে একবার’ এ কথা জানালেন ফলাহারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম। তবে বানদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল মজুমদার বলেন, প্রত্যেক বছরই একটা দুইটা করে অধ্যায় যোগ বিয়োগ হচ্ছে। এ বছর হয়ত কোন অধ্যায় সংযোজন হচ্ছে আবার দেখা গেছে অন্য বছর সে অধ্যায় বিয়োজিত হয়েছে। তবে বেশি ক্ষেত্রে সমাজ বইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ের রদ বদল করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যে কারণে পাঠ্যক্রমের বদল: ‘আগে প্রথম শ্রেণীতে পড়ানোর জন্যে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শব্দানুক্রমিকভাবে করা হতো। আর বর্তমানে তা করা হচ্ছে বাক্যানুক্রমিকভাবে।’ পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের এটিও একটি কারণ বলে জানালেন বানদত্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাছাড়া সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিও বিশেষতঃ সমাজ বইয়ের দুএকটা অধ্যায় পরিবর্তনের কারণবলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, যে সরকার ক্ষমতায় তারা তাদের মত ইতিহাসের বিভিন্ন কথা যোগ করে। এর ফলে সে সরকার ক্ষমতায় না থাকলে অন্য সরকার তা আবার বদল করে। তবে মোদ্দাকথা হলো প্রাথমিক স্তর এখনো বৃটিশ প্রণীত পাঠ্যক্রমের ছকেই রয়ে গেছে। যা একটা যোগ বিয়োগ তা কেবল দেশের বিভিন্ন সরকারি দলের পূর্বসূরীর গুণগান বলে মন্তব্য করে কলেজ ছাত্র সোহেল।
পাঠ্যক্রম বদলের নীতিমালা: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু ননী গোপাল জানান, পাঠ্যক্রম বদলের আলাদা কোন নীতিমালা নেই। এনটিসিবি’র পাঠ্যক্রম প্রণয়নে একটা কমিটি আছে, তারা বসেই রদবদল করে। এ কমিটিতে কারা থাকে জানতে চাইলে তিনি জানান, হয়ত বড় কোন আমলা বা কোন সচিব থাকে সে কমিটির প্রধান। তবে এ সকল লোকজনের অভিজ্ঞতা কিংবা যোগ্যতার চেয়ে সরকারের পছন্দসই লোককেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে কমিটির কাজ হয় সরকারের জনগণের সাথে লেজুড়যুক্ত পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা। গঙ্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার বলেন, পাঠ্যক্রম প্রণয়নে ছাত্রছাত্রীদের চাহিদা নিরুপন করতে হয়। ছাত্রছাত্রী কি চায়, কি দরকার জানতে হবে। সেজন্যে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে প্রান্তের ছাত্র শিক্ষক থেকে কেন্দ্রের অভিজ্ঞ লোকজনের অংশগ্রহণ দরকার। আমাদের এখানে তা করা হয়না। ফলে আমাদের পাঠ্যক্রম যুথসই হয়ে উঠেনা।
বই মিছা কতা লেহে: মিলন। হাই স্কুলে পড়ে। এখন সে কম বেশি রাজনীতি বুঝে। প্রাথমিক স্তরের বই নিয়ে মিলন বলে, ‘চুতর্থ শ্রেণীর বইতে লিখেছে শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছে। কিšদ আমি এখন আমার ভাইয়ের কাছে শুনেছি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। এবং এটাই সত্যি। তাই তার ধারণা বইতে মিছা কথা লেহে।এ প্রসঙ্গে বানদত্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আসলে বিষয়টি ভাবনার। কারণ সরকার বই বদলের সময় তাদের মত কথাবার্তা লেখে । ছাত্রছাত্রী নিচের ক্লাশ থেকে ্সবে পড়ে গেলেও উপরের ক্লাশে গিয়ে তারা অনেক বিষয় রাজনৈতিক বক্তৃতার সাথে গুলিয়ে ফেলে।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেছে কি করেনি, তা সত্য কি মিথ্যে তা আমার প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হলো বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত। তাই বিতর্কিত কোন কিছু ছোট ছেলেমেয়েদের শেখালে যদি তা বড়ো হয়ে জানতে পারে তাহলে শিক্ষক ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা নষ্ট হয়।
আগডুম বাগডুম:পৃথিবীর অন্যান্য দেশ তাদের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষিত করলেও আমাদের দেশের শিশুরা অর্থহীন ছড়া পড়েই চলেছে। কলেজ পড়–য়া সোহেল বলেন, প্রত্যেক কবিতা গল্পেই একটা অর্থ থাকে এবং সে অর্থ উপস্থাপন করাই কবিতা বা গল্পের উদ্দেশ্য। বর্তমানে অনেক কবিতা ছড়ারই কোন অর্থ নেই। এ প্রসঙ্গে শিক্ষক ননী গোপাল বলেন, এসব ছড়া দিয়ে শিশুদের বা বাচ্ছাদের মুখের জড়তা কাটে এবং সহজভাবে শিশুদের শেখানোর জন্যেই এসব ছড়া পড়ানো হয়। আগডুম বাগডুম, হাট টিমা টিম টিম কিংবা রং মেখে সং সেজেসহ বেশ কিছু ছড়া আছে প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন বইতে। সে সকল ছড়ার মধ্যে শেখার কিছুই নেই। কলেজ পড়–য়া সোহেল বলেন, আসলে স্কুলে ছেলেরা কিছু পড়তে হবে তাই এসব ছড়া। এ সকল পড়ায় কোন অর্থ থাক বা না থাক তাতে কি, পড়া হলেই তো হলো এ ধারণা নিয়ে বোধহয় পাঠ্যক্রম প্রণেতারা পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে।
এ বছরে ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা: থানা শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান বছরে প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৮টি বই পরিবর্তন হচ্ছে। এ বছর প্রায় নতুনভাবে ৮ কোটি বই ছাপানোর কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে পাঠ্যক্রম বদলের কারণে ২ থেকে আড়াই কোটি বই নতুনভাবে ছাপাতে হচ্ছে। এতে করে সরকার প্রতি বছর প্রচুর টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে। নতুনভাবে ছাপানো পরিবর্তিত বইয়ের দাম হিসেব করলে প্রায় (যদি একটা বইয়ের দাম ১৫ টাকা করে ধরা হয়) ৫০ কোটি টাকার মত দাঁড়ায়। এতো গেল সরকারি গচ্ছার হিসেব, বেসরকারিভাবে যে সকল বিদ্যালয়, কেজি স্কুল, এনসিটিবি’র সাথে চুক্তি করে তারা ডিলারদের থেকে বই কিনে নিতে হয়।কান্দিরপাড় গ্রামের এনায়েত উল্যাহ বলেন, বেসরকারিভাবে যারা পড়াশুনা করছে বই বদলের ফলে তাদের সবেচেয় বেশি আর্থিক ক্ষতির মোকাবেলা করতে হয়। তিনি বলেন, এক সময় দেখা যেতো আমরা একসেট বই দিয়ে দুই/তিন বছর পর্যায়ক্রমে পড়তে পারতাম। কিšদ বর্তমানে প্রতিবছর বই বদলের ফলে নতুনভাবে প্রতিবছর বই কিনতে হয়। এতে করে অভিভাবকদের যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তেমনি শিক্ষকরাও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।নরোত্তমপুর ইউনিয়নের মনির আহম্মদ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বর্তমানে ইপিআই, শুমারীসহ নানা কাজে জড়িত থাকায় তারা প্রায়শই ঠিকমত কাজে মনোযোগ দিতে পারেনা। এতে করে অভিভাবকরা ছেলেদের জন্যে নোটবই কিনে দেয়। যদিও তা বেআইনী। কিšদ আমাদের সমস্যা হলো, ২/৩শ টাকা দিয়ে নোট বই কেনার পর দেখা যায়, ছেলেমেয়েদের ১ বছর পড়ার পর তা আর কেউ কিনে নেয় না বা পরবর্তীতে কেউ পড়ে না। কারণ সরকারি বই বদল হওয়ার পর তা আর নোট বইয়ের সাথে মিলেনা। এতে করে প্রতি বছর গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের অনেক টাকা নষ্ট করতে হয়।
যা লেখে তাই পড়াই: বানদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লুলু বিলকিছ বানু বলেন, বিগত ১০ বছরে অন্তত বই বদল হয়েছে তিনবার। তিনি বলেন,আগেরকার সময় দেখা যেতো যে শিক্ষক যে বিষয়ে পড়াতেন তিনি সে বিষয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ের সাথে খুব পরিচিত হয়ে উঠতেন এবং ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানে স্বকীয় একটা স্টাইল গড়ে তুলতেন। কিšদ বর্তমানে তা হয়ে উঠে না। তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারি চাকুরী করি যা, লেখা তাই পড়াই কিšদ আমাদের তো দায়বদ্ধতা আছে। গত দশ বছরে বাংলা এবং সমাজ বইয়ের কয়েকটি অধ্যায় নানাভাবে পড়াতে হয়েছে। যা সত্যি দুঃখজনক।

ক্ষুদ্র পেশাজীবিরা পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে পিছিয়ে পড়ছে

ক্ষুদ্র পেশাজীবিরা হারিয়ে যাচ্ছে সমাজ থেকে। তাদের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা আর আগের মত নেই। এর অনেক কারণ রয়েছে। উপকরণের অভাবসহ আর্থিক সংকট ও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় ক্ষুদ্র পেশাজীবিরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। এখনো চড়াই উৎরাই পেরিয়ে টিকে আছে এমন কয়েকটি ক্ষুদ্র পেশাজীবি হলো শিশাগর, ওঝা, কামার ও কুমার। তাদের জীবনালেখ্য থেকেই অনুমান করা যাবে কেমন চলছে তাদের রোজকার জীবনযাত্রা।
শিশাগর: পুরনো ও ভাঙা কাঁচের শিশি বোতল এবং হারিকেনের চিমনি কিনে বিশেষ কায়দায় নতুন করে ওষুধের বোতল, নল ও নলের আগা এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধ রাখার শিশি তৈরির কাজ করতো এ শ্রেণীর ক্ষুদ্র পেশাজীবিরা। এ শ্রেণীর পেশাজীবিদের বলা হয় শিশাগর।সারাদিন গ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে এবং বাড়ি বাড়ি ঘুরে তারা ভাঙা কাঁচ সংগ্রহ করত। তারপর সেই সকল কাঁচকে গলিয়ে তারা ফুঁ দিয়ে কাঁচের জিনিসের আকার দেন। সোনাইমুড়ী থানার কৌশল্যার বাগ গ্রামের আবুল কাশেম শিশাগরের কাজ করেন। কার্যপ্রণালী সম্পর্কে তিনি জানান, তারা লোহার একটি নলের মাথার গলানো কাঁচ নিয়ে তাতে বারবার ফুঁ দিয়ে ও বারবার ঘুরিয়ে ইচ্ছামত বিভিন্ন ধরণের জিনিস বানাত। কাজের সময় ডান হাতে একটি লোহার চিমটি ধরে আর বা হাতে লোহার নল ধরে এরা জিনিসের নানান আকৃতি দেন। দেশের অর্থনীতিতে শিশাগরদের একটি বিরাট ভূমিকা আছে। কাঁচের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস পত্রাদি দিয়ে আবার জিনিস তৈরি করে। তাদের এ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত করা হয় ভাঙা কাঁচ। ফলে নগদ টাকা দিয়ে কোন কাঁচামাল কিনতে হয় না। কাঁচামাল তৈরিতেও আবার অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় না। যার ফলে অকার্যকর কোন জিনিস যেমন কাজে লাগে তেমনি শ্রমকে পুঁজি করে তারা আবার নতুন পণ্য তৈরি করে। শিশাগরদের তৈরি জিনিসপত্রও অবশ্যই ভঙ্গুর এবং বাতাসের বুদবুদ ভরা থাকে। বিভিন্ন পূজা-পার্বনে এক সময় শিশাগরদের ব্যস্ত থাকতে হবে বলে জানান কৌশল্যার বাগের আবুল কাশেম। তিনি বলেন, আমাদের বানানো শিশি কিংবা বাতির নির্মাণ সব সময় ধনী লোকদের ঘরেই শো-পিচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিšদ আধুনিক সময়ে নানারকম অটোমেটিক মেশিনে তৈরি জিনিসের সাথে তাল না মিলাতে পেরে অনেকেই বর্তমানে এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজ করছে। তাছাড়া কারো কারো এ পেশায় থাকার চিন্তা ভাবনা থাকলেও সরকারিভাবে এ সকল জিনিস পত্রাদি বানানোর আধুনিক কোন নিয়ম কানুন প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এ পেশার বিলুপ্তি ঘটছে।
ওঝা: ‘ওঝা’ মানে পেট। এক সময় ওঝা পেশায় নিযুক্তরা প্রথমেই মানুষের পেট পরীক্ষা করত বলে কালেভদ্রে তাদের পেশাই হয়ে যায় ওঝা। এ পেশা বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায়। গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়, ওঝাদের চিকিৎসা পদ্ধতি একেজনের একেক রকম। হয়ত একজন ওঝা কোন গাছের শেকড় দিয়ে সাপকে বশীভূত করতে পারেন। অথবা সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসা করাতে পারেন। আবার অন্য আরেক জনের কাছে হয়ত মাথাব্যাথা সারাবার কোন টোটকা ওষুধ থাকে। আবার কোন কোন ওঝা আছে যারা তাবিজ বা ধন্বন্তরি কবচ দেয় যাতে দুনিয়ার তাবত বালামুসিবত দূর হয়। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা এবং আধুনিকতার ফলে এ পেশাটি একদম বিলুপ্তির পথে। ওঝা পেশায় কাজ করে ছাদুল্লাপুর গ্রামের নুরুল হক বলেন, এক সময় ওঝাদের অনেক চাহিদা থাকলেও বর্তমানে তা নেই। এখন সাধারণতঃ কারো ঘর বাড়িতে সাপ দেখা গেলে তা ধরার জন্যে অনেকে আমাদের ডাকেন। তাতে ৫০/১০০ টাকা আয় হয়। এছাড়া তেমন আর কোন কাজ নেই। কেহ কেহ কয়েকটি সাপ নিয়ে বাজারে বাজারে খেলা দেখিয়ে পরে নানারকম তাবিজ কবজ কিংবা ওষুধ বিক্রি করলেও আমি তা করিনা।মাসে এ কাজে সর্বোচ্চ ৩০০/৪০০ টাকা আয়। এ আয়ে কোনভাবে সংসার চালানো সম্ভব হয়না। তাই নুরুল হক এ পেশা থেকে প্রায় সরেই গেছে। তিনি এখন এ পেশার বদলে কৃষিকাজে জড়িত। বৈজ্ঞানিকযুক্তির সাথে এ পেশার তেমন মিল না থাকলেও এ পেশাটি আমাদের সংস্কৃতিরই একটা অংশ। কিšদ বর্তমান সময়ের চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে এ পেশাটি প্রায় বিলুপ্তির পথে।
কামার: যারা লোহা দিয়ে নানা উপকরণ তৈরি করে তাদের কামার কিংবা কর্মকার বলা হয়। কোদাল, নিড়ানি, দা, বটি, কুড়াল, শাবল, ছুরি, লাঙ্গলের ফলা, কাঁচি ইত্যাদি তৈরী করাই মূলতঃ কামারের কাজ । লোহা ও কয়লা হলো কামারদের কাজের মূল উপকরণ। কালামুন্সি বাজারের কামারের কাজ করে বাবুল। আলাপে তিনি জানান, লোহাকে কয়লার আগুনে পুড়িয়ে ছোট বড় হাতুড়ি, নেহাই, চিমটা, চামড়ার হাপর, পানি ইত্যাদি ব্যবহার করে বিভিন্ন জিনিসের আকার দেয়। বাবুল বলেন, আমরা কয়লার আগুনে লোহাকে গরম করে তা পিটিয়ে পিটিয়ে নানা দ্রব্য তৈরি করি। চামড়ার হাপারে দড়ি বাধা থাকা, সেই দড়ি একহাতে টেনে আগুনের উত্তাপে লোহাকে গরম করে। লোহা লাল হয়ে গেলে তা কাঠের গুড়ি অথবা লোহা দিয়ে তৈরি একটি শক্ত জিনিসের উপর রেখে পিটিয়ে পিটিয়ে লোহাখন্ডকে প্রয়োজন মাফিক দ্রব্যের আকারে ধারণ করাই। তারপর তা তৈরী হলে পানিতে ফেলে দেই ঠান্ডা হওয়ার জন্যে। এভাবে যে কোন জিনিস তৈরী হয়।
কুমার: মাটি দিয়ে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী সমূহ যারা তৈরি করে তারাই কুমার। এ পেশাটি কেবল আমাদের দেশেরই পেশা নয়। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায়, মিশরে, সিন্ধু নদীর তীরবর্তী এলাকায়, চীন পারস্য, এশিয়া মাইনরের নানা স্থানে, প্রাচীন গ্রীসে, ইটালীতে মৃৎশিল্পের নিদর্শন প্রত্মতাত্ত্বিকরা উদ্ধার করেছেন। বাংলাদেশে মূলত হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজন একাজ করে থাকে। উপাধিতে তারা পাল। কুমার মাটি দিয়ে নানা উপকরণ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে।উৎপাদিত জিনিসের মধ্যে কুমাররা মূলত মাটি দিয়ে গৃহস্থলী কাজে নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য যেমন রান্নার হাড়ি পাতিল, ঢাকনা, পিঠার হাড়ি, কলস, ঘরা, গামলা, গ্লাস, হুক্কা, ধুপদানী ইত্যাদি তৈরি করে। এছাড়া রকমারী দ্রব্য ফুলের টব, পয়সা জমানোর মাটির ব্যাংক, নানা ধরনের ফলমূল, জীবজšদর প্রতিকৃতি, মাটির মটকা ইত্যাদি তৈরি করে। হিন্দুদের দেবদেবীর মূর্তিও তৈরি করে কোন কোন কুমার।মৃৎশিল্পের প্রধান উপকরণ মাটি। এ মাটির নাম এঁটেল মাটি। চাপরাশির হাট ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর গ্রামের মনা চন্দ্র পাল বলেন, কুমিল্লা জেলার বিজয়পুরে ইটের মাটি, ঢাকা রায়ের বাজারে রাঙ্গামাটি, জামালপুর জেলার বজরার বালিমাটি, ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ার লাছামাটি এ কাজে ব্যবহৃত হয়। কাজের সময় তারা এ মাটির সাথে সমপরিমাণে বেলেমাটি মিশিয়ে দোঁআশ মাটি তৈরি করে। তারপর তা দিয়ে মন্ড তৈরি করে চাকার সাহায্যে পাত্রের আকৃতি দেওয়া হয়। দ্রব্য তৈরির জন্যে প্রথমে লাঠি দিয়ে ঘুরিয়ে চাকার বানানো হয়। খুব দ্রুত গতিতে চাকাটি যখন ঘুরতে থাকে তখন গোল করে মাটির বুটিটি ঠিক মাঝখানে রেখে কুমাররা আঙ্গুলের সাহায্যে ইচ্ছামত পাত্র তৈরি করে। একত্রে কয়েকটি পাত্র তৈরি করার মতো মাটি তারা চাকা উপর তোলে। একটি পাত্র তৈরি শেষ হলে চিকন একটি সুতা দিয়ে মাটির নীচের অংশ চাকার থেকে কেটে দেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজন মোতাবেক পাত্রের গায়ে নকশা করা হয়। নকশা শেষ হলে তা কমপক্ষে ৮/১০ ঘন্টা শুকাতে দেওয়া হয়। তারপর তা শক্ত হলে খয়ের, কাপড়কাঁচার সোডা ও লালমাটি বা গাছের ছাল দিয়ে প্র¯দতকৃত রং তাতে লাগানো হয়। শেষ পর্যায়ে বিশেষভাবে তৈরি একটি চুলোতে সরিবদ্ধভাবে মাটির পাত্রগুলোকে বসিয়ে সেগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা হয়। এভাবেই কুমাররা মাটি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস পত্রাদি তৈরি করে।
আর্থ-সামাজিক অবস্থা: কামার, কুমারদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এক সময় খুবই ভাল ছিল। তাদের উৎপাদিত পণ্যের একদা খুব চাহিদা ছিল, তারা দ্রব্য সামগ্রীর দামও পেত প্রচুর। প্রত্যেক গ্রামে এ সকল পেশার দু’একটি পরিবারে পাওয়া যেতো। কিšদ বর্তমানে তাদের সংখ্যা কমে আসছে। ক্রমশঃ এ শ্রেণীর বিলুপ্তি ঘটছে। কেহ কেহ অন্য পেশায় চলে গেছে আবার ভারতেও চলে গেছে অনেক পরিবার। একদা কামারের ছেলে কামার, কুমারের ছেলে কুমার হবে এ ধারণা করা হলেও এখন তা হয় না। এখন তারা লেখাপড়া শিখে অন্যান্য পেশায় যাচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি দেশে এসেছে। কাঁচি দা ইত্যাদি তারা লাভে বিক্রি করতে পারে না। কাসা, তামা, কাঁচ, ষ্টিল, এলুমিনিয়াম, প্লাষ্টিক, ম্যালামাইন, ত্রিষ্টাল ইত্যাদি দেশে আমদানীর ফলে মাটির জিনিসের কদরও কমে গেছে। মানুষ স্বল্পমূল্যে দীর্ঘস্থায়ী, চাকচিক্যের জন্যে সে সকল দ্রব্য কিনছে। ফলে কামার কুমারদের উৎপাদিত জিনিসপত্র এতটা বিক্রি হচ্ছে না। তবুও দুএকজন যারা এখনো এসব পেশায় নিয়োজিত আছে তারা খুব কষ্টেই দিনাতিপাত করছে। আর অনেকেই এ পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। প্রতিটি গ্রামে দ্এুকজন করে এ সকল পেশাজীবি দেখা গেলেও এখন আর নেই। এখন ১০ গ্রাম খুঁজে একজন কামার কিংবা কুমার পাওয়া যায়। প্রায় সকলে পাড়ি জমাচ্ছে শহরে, পেশার বদলে জীবন যাপনের তাগিদে।
পেশা হিসেবে কামার: নোয়াখালী সদর থানাধীন সোন্দলপুুর গ্রামে এক সময় অনেক কামার থাকলেও এখন হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র কামার আছেন। আবদুল্লাহ মিয়ার হাট বাজারে কামারের কাজ করে প্রিয়লাল কর্মকারের সাথে আলাপে জানা যায়। এ কাজের জন্যে তাদের কয়লা সংগ্রহ করতে ফেনী যেতে হয়। চড়া দামে পোড়ানো কয়লা কিনে আনতে হয়। লোহার জন্যেও চট্টগ্রাম অথবা অন্য কোন জায়গায় যেতে হয়। স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল পাওয়া যায়না। তাই কাঁচামালের সাথে সঙ্গতি রেখে তারা যখন তাদের দ্রব্যাদি বিক্রি করতে চায় তখন অনেকে তা না কিনে ষ্টিলের জিনিস কিনে। তা যেমন সাশ্রয় তেমনি চাকচিক্যও বটে। কামাররা কাজ শিখে তাদের পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে। তাদের কোন প্রশিক্ষণ যেমন নেই তেমনি নেই কোন পৃষ্ঠপোষকতা। অভাব তাদের সাথে সাথে থাকে। তাই তাদের প্রায় ঋণগ্রস্থ হতে হয়। কিšদ তা শোধ করতে তাদের প্রাণান্তকর অবস্থা। অথচ সরকারি বা বেসরকারি কোন উদ্যোগ তাদের জন্যে নেই। জীবনের ঝুকিও রয়েছে প্রচুর। বাবুল কর্মকার ও প্রিয়লাল কর্মকার জানান, তাদের অনেকেই আর এ পেশায় থাকছে না। পেশা হিসেবে কুমারদেরও একই সমস্যা। নোয়াখালী সদর থানার পূর্বাঞ্চলে তেমন কোন কুমার নেই। দু’একজন যারা আছে তাদের পূর্ব পুরুষরা এ পেশায় ছিল। কিšদ তারা এখন নেই। না থাকার কারণ সম্পর্কে মনা পাল জানান, কুমারদের কাঁচামাল সংকট রয়েছে প্রচুর। এছাড়াও লোকজন বিকল্প দ্রব্যের ব্যবহার বাড়িয়েছে। তারা তাদের উৎপাদিত দ্রব্যাদির সঠিক দাম পাচ্ছে না। এ সকল কারণে তারা সর্বদা এক পেশায় না থেকে দ্বিতীয় আরো একটি পেশায় থাকছে। ফলে দুটি পেশায় লাভ চিন্তা করে অনেকে এ পেশাকে অলাভজনক ভেবে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এ পেশার রয়েছে ঝুকি। উৎপাদন খরচ আর বিপণন মূল্য দুটো তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্য হচ্ছে না বলে প্রায়ই তারা ঋণ নিচ্ছে। আর জড়াচ্ছে ঋণের দুষ্টজালে। তাদের জন্যে ভালভাবে সরকারি বেসরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা নেই। তাই অনেকে এ পেশায় আর থাকতে চাইছে না। এছাড়াও বর্তমানে কিছু কিছু সংস্থা তাদের থেকে বিভিন্ন জিনিস কিনে নিয়ে বিদেশীদের কাছে বিক্রি করছে। তারা সে সকল দ্রব্যের দাম পাচ্ছে কম। অন্যদিকে সংস্থাগুলো দাম কুড়াচ্ছে। তাদের জন্যে উৎপাদিত দ্রব্যাদির আলাদা কোন বাজার নেই।
সুপারিশ: - ক্ষুদ্র পেশাজীবিদের উৎপাদিত দ্রব্য সামগ্রীর বাজার সৃষ্টি করা যেতে পারে।- সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।- ক্ষুদ্র পেশাজীবিদের দ্রব্য সামগ্রী বিদেশে রপ্তানীর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।- সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ ও কাঁচামালের যোগান দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।- পেশা হিসেবে ক্ষুদ্র পেশাজীবিদের যে কোন পেশাকে মূল্যায়ন করতে হবে।

Tuesday, July 31, 2007

স্থানীয় সাংবাদিকতায় সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ তৃণমূল স্তরে সুশাসন ব্যাহত

সংবাদপত্রকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তৃণমূলে কতখানি গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে, গণতন্ত্র চর্চায় কি কি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে জনগণ সরকার থেকে কি ধরণের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও তার সমাধান কি হতে পারে এ সকল কিছুই উঠে আসে স্থানীয় সংবাদপত্রে। মূলতঃ স্থানীয় সংবাদপত্র শাসক গোষ্ঠী ও জনগণের মাঝে মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কিšদ স্থানীয় সংবাদপত্র প্রকাশেও রয়েছে বিবিধ সমস্যা।বৈষম্যহীন সমাজ, সুষ্ঠু সমন্বিত উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সাংবাদিকতার প্রয়োজন অপরিহায্য। স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার বিকল্প ও সংবাদপত্র প্রকাশনায় গতিশীলতা বৃদ্ধি সুশাসন নিশ্চিত করার জন্যে অপরিহার্য।যে কোন ধরণের ধারণার চর্চা করতে হয় তৃণমূল থেকে। মফস্বলে অবস্থান করছে আমাদের তৃণমূল সমাজ। সুষম বন্টন ব্যবস্থায় কোন পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া আমাদের দেশে গড়ে না উঠায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী তৃণমূল সমাজ তাদের ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, সহকারি, বেসরকারি অসহযোগিতা, শিক্ষার অভাব, দারিদ্র্য ইত্যাদি কারণে প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। চর্চা হচ্ছে না গণতন্ত্রের। অথচ দেশ এখন গণতান্ত্রিক শে¬াগানে মুখরিত। জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে সুশাসন থেকে।স্থানীয় সকল সমস্যা একমাত্র সংবাদপত্রই প্রকাশ করতে পারে। সংবাদপত্রকে মনে করা হয় জনগণের সদাজাগ্রত লোকসভা বলে। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের সুশাসন প্রাপ্তির অধিকার যেমন রয়েছে তেমনি সংবাদপত্র এ বিশাল জনবসতির সাথে মহামিলন ঘটিয়ে দিতে পারে। স্থানীয় সংবাদপত্র পারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে। সরেজমিন পরিদর্শন, সংশি¬ষ্টদের সাথে আলাপে জানা যায়, স্থানীয় সংবাদপত্রও এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এ ব্যর্থতার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে: স্থানীয় পত্রিকার ডিক্লারেশনে সমস্যা, আর্থিক দৈন্যতা, বিজ্ঞাপন প্রাপ্তিতে সমস্যা, প্রশাসনের অসহযোগিতা, দক্ষ সংবাদকর্মীর অভাব, ব¯দনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে বাধা, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের চাপ, ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে পত্রিকা প্রকাশ করা ইত্যাদি। সরকার ও সচেতন মহল স্থানীয় সংবাদপত্র প্রকাশে যথাযথ সহযোগিতার হাত বাড়ালেই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে সকল মহলের ধারণা।
নোয়াখালীর সংবাদপত্র: নোয়াখালী জেলার সংবাদপত্রের ইতিহাসে দেখা যায়, স্থানীয় সংবাদপত্র জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায় কত বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ১৮৭৪ সালে বৃটিশ শাসিত ভারতবর্ষে থাকা অবস্থায় নোয়াখালী অঞ্চলের লোকজন ‘ঢাকা প্রকাশ’ নামে একটি সংবাদপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নিলেও আর্থিক সহযোগিতা না পাবার কারণে সংবাদপত্রটি শেষ নাগাদ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। নোয়াখালী থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকার নাম সাপ্তাহিক ‘পূর্ব বঙ্গবানী’। ১৮৮৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায় প্রকাশের মাত্র চার বছরের মাথায়।স্বাধীনতাপূর্ব বৃটিশ আমলে,পাকিস্তান শাসনামলে এ জেলায় প্রচুর সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলোর প্রায় সবগুলোই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। স্বাধীনতার ৩০ বছরের মধ্যেও নোয়াখালীতে প্রচুর সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছে। কিšদ তার অনেকগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার সংবাদপত্র প্রকাশনার ধারাক্রমটিকে মোট চার পর্বে ভাগ করা যায়। প্রথমতঃ বৃটিশ শাসনকাল- সংবাদপত্র বিকাশের সূচনাপর্ব। দ্বিতীয়তঃ পাকিস্তান শাসনামল পর্ব। তৃতীয়তঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তীকাল। চতুর্থতঃ নতুন জেলাভিত্তিক প্রশাসনিক বিন্যাস পরবর্তী।
ডিক্লারেশন: নজরানা যেন ফাইলের জীবনিশক্তি: জাতীয় পত্রিকাসমূহে স্থানীয় সংবাদ কম আসে বলে স্থানীয় জনসাধারণের দুঃখ দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরার জন্যে স্থানীয় পত্রিকার আত্মপ্রকাশ। কিšদ স্থানীয় পত্রিকার ডিক্লারেশন পেতে অনেক খড়কাঠ পোহাতে হয়। এর জন্যে প্রথমে জেলা প্রশাসক বরাবরে দরখাস্ত করে ডিএফপি থেকে পত্রিকার নামে ছাড়পত্র আনতে হয়। এরপর ডিএসবি, এসপিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন টেবিল ঘুরে পত্রিকার ডিক্লারেশন ফাইল আলোর মুখ দেখে। কিšদ টেবিলে টেবিলে ফাইল চালনা করতেই সমস্যা হয় সবেচেয়ে বেশি। পত্রিকা ডিক্লারেশনের জন্যে বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ প্রদান করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ হলে তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পত্রিকা প্রকাশনায় ইচ্ছে আছে, অর্থ নেই:ম্যাসলাইন মিডিয়া সেন্টারের একদল কর্মীবাহিনী নোয়াখালীর বিভিন্ন সংবাদপত্র কার্যালয় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শক দল পত্রিকার সম্পাদক, মালিক এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকার সম্পাদকের সাথে কথা বলেন। এ পরিদর্শনকালে যে তথ্যটি বেরিয়ে আসে তাহল, সকল পত্রিকার সম্পাদকদেরই পত্রিকা প্রকাশের ইচ্ছে আছে কিšদ তারা আর্থিক দৈন্যতার কারণে পত্রিকা প্রকাশ করতে পারছেনা। সরকারি বেসরকারি বিজ্ঞাপন না পাওয়ার কারণে অনেক পত্রিকাই বন্ধ হয়ে গেছে। যে কয়েকটি পত্রিকা এখনো টিকে আছে সেগুলোর অধিকাংশই সম্পাদকদের নিজ পকেটের টাকায় ছাপা হয় বলে জানান নোয়াখালী কন্ঠের সম্পাদক। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সংবাদকর্মীদের কোন সম্মানী দিতে পারে না ফলে সংবাদকর্মীরা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে বিকল্প পেশায় চলে যায়। অবশ্য যথাযথ সম্মানীছাড়া যে কেন কাজকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করাও ঠিক নয়। তাই জীবনের তাগিদে তারা অন্য পেশায় যুক্ত হয়। এতে করে স্থানীয় সংবাদগুলো প্রশিক্ষিত সংবাদকর্মী পায় না। পত্রিকা প্রকাশের জন্যে অর্থনৈতিক যোগান অবশ্যই দরকার সেজন্যে ডিএফপি কেন্দ্রীয়ভাবে বিজ্ঞাপন বন্টন বন্ধ করে স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া উচিত।
মালিক যিনি সম্পাদক-সংবাদকর্মীও তিনি: স্থানীয় পত্রিকাকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সচল রাখার জন্যে যে পরিমাণ দক্ষ লোকবল প্রয়োজন সেটি একেবারে নেই বললেই চলে। নোয়াখালী থেকে প্রকাশিত অধিকাংশ পত্রিকার সাথে যুক্ত রয়েছে কিছু তরুন। যারা সাংবাদিকতার দায়িত্ব ও লেখালেখির দক্ষতা সম্পর্কে তেমন কোনো অভিজ্ঞতাই রাখেন না। কোনরূপ প্রশিক্ষণ ছাড়া একসময় এ রকম লিখতেন মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, সমাজের নানা ধরণের মানুষের সাথে বাস করতে গিয়ে যে ঘটনাটি আমার কাছে অ-স্বাভাবিক মনে হতো সাধারণতঃ সেই ঘটনা দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করতাম। তাছাড়া সংবাদ লেখার আলাদা কাঠামো আছে, লেখার কৌশল আছে এ ধরণের কোন ধারণাও রাখতাম না। সাংবাদিকতার মাধ্যমে যে একটি মহৎ কাজ সম্পন্ন হয় সে কথা আজকে অনেকেই বিশ্বাসই করে না। প্রত্যেকে এ সকল কাজকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে দেখে। চৌমূহনী থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পূর্বশিখার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম হারুন বলেন, কিছু আগ্রহী তরুন খুব আগ্রহ নিয়ে মাঝে মধ্যে লেখালেখি শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত আমরা আর্থিক দৈন্যতার কারণে তাদেরকে যথাযথ সম্মানী দিতে পারিনা বলে পরবর্তীতে তারা অন্য যে কোন পেশায় চলে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদক বলেন, স্থানীয় পত্রিকাগুলো সাধারণত দু’একজনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় নামকা ওয়াস্তে দু’একজনের নাম ব্যবহারই হয় মাত্র। কার্যত একজন ছাড়া বাকী কেহ প্রকাশনায় যুক্তও থাকেনা। এতে সম্পাদক যিনি সংবাদকর্মীই তিনি। আবার সংবাদকর্মী যিনি মালিকও তিনি।
স্থানীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন, অযথা খরচ: পত্রিকা প্রকাশের জন্যে প্রয়োজন আর্থিক সঙ্গতি। আর এ আর্থিক স্বচ্ছলতার একটি উপায় সরকারি ও বেসরকারি বিজ্ঞাপন। কিšদ স্থানীয় পত্রিকার জন্যে প্রচলিত বিজ্ঞাপন নীতি রয়েছে তা খুবই বৈষম্যমূলক। বেসরকারি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সমস্যা। স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ শিল্প কারখানা না থাকার কারণে বেসরকারি অবস্থান থেকেও তেমন কোন বিজ্ঞাপন পাওয়া যায় না। এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী কন্ঠ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন বাচ্চু বলেন, বেসরকারিভাবে যাদের দুএকটি কল কারখানা আছে তারা মনে করে স্থানীয় পত্রিকার পাঠক কম। কম মানুষই স্থানীয় সংবাদপত্র পড়ে। তাই স্থানীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিলে তাদের প্রচার-প্রসার কম হবে ভেবে তারা জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রদানকে তারা অযথা খরচ বলে মনে করেন। সাপ্তাহিক ফয়সালা পত্রিকার সম্পাদক আবু জাফর বলেন, ‘সরকারি পর্যায় থেকে স্থানীয় পত্রিকাগুলো যে ছিঁটেফোটা বিজ্ঞাপন পায় তাতে তেমন একটা সাশ্রয় হয় না।’ সরকারি দুএকটি বিজ্ঞাপন পাওয়া গেলেও বিজ্ঞাপনের বিল প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় পত্রিকাগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হলে স্থানীয় বিজ্ঞাপনগুলো স্থানীয় পত্রিকায় দেওয়া উচিত। স্থানীয় পত্রিকার সাথে যেহেতু আম জনতার জীবন জীবিকার যোগসূত্র থাকে তাই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠানটির সাথে জনতার মিলন অটুট রাখার জন্যে স্থানীয় সংবাদপত্রও অত্যাবশ্যক।অমুক ভাইয়ের সংবাদ ছাপা যাবেনা: সাংবাদিকরা অনেক সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও প্রশাসনিক দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ ছাপার ফলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল প্রশাসন কর্তৃক হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে এমন অনেক ঘটনা আছে বলে বিভিন্ন মহলের সাথে আলাপকালে জানা যায়।ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির কথা পত্রিকায় প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকরা নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ থানার বসুরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান আঃ কাদের মীর্জার রোষানলে পড়তে হয়। তিনি জনসম্মুখে সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন। এমনকি তার দুর্নীতির বিষয়ে লেখার ফলে অনেক সাংবাদিককে এলাকা ছেড়ে ফেরারী জীবন যাপন করতে হয়। এছাড়াও ফেনীতে সত্য ও ব¯দনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করার অপরাধে সাংবাদিকদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এমনকি এ সকল গোষ্ঠীর চাপে কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দিতে হয়। একই ঘটনা ঘটে লক্ষ্মীপুরে। সেখানে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান বিভিন্ন দুর্নীতি, অন্যায়, নির্যাতন, খুন ইত্যাদির কথা স্থানীয় সাংবাদিকরা পত্রিকায় তুলে ধরলে তিনি তৎকালীন একজন মন্ত্রীর সামনে জনসম্মুখে সাংবাদিকদের হাত-পা কেটে ফেলার হুমকি দেন। এ প্রসঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদক আফতাব উদ্দিন বাচ্চু বলেন, স্থানীয় পত্রিকার কোন সংবাদ ছাপাতে হলে স্থানীয় গড ফাদারদের অনুমতি নিতে হয়। কোন সংবাদটি ছাপানো যাবে কোনটি যাবে না তা স্থানীয় টাউটরা সম্পাদকদের পরামর্শ দেন। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এ সকল কথা উপেক্ষা করার কারণে একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা তার পত্রিকা অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। হুমকি, ভীতি, রাজনৈতিক চাপ ইত্যাদি কারণে জাতীয় ও স্থানীয় পত্র পত্রিকায় গ্রামের খবর প্রবাহের হারও খুবই নগন্য।
প্রশাসন ভাবে সাংবাদিক নয় যেন গোয়েন্দা: সাংবাদিকরা স্থানীয় প্রশাসনের যথাযথ সহযোগিতা পায় না। প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ডাকার নিয়ম থাকলেও তাদের তেমন একটা ডাকা হয় না। আবার অনেক সময় প্রশাসন কেবল ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনকারী সাংবাদিকদের ডাকে। এছাড়াও সাংবাদিকরা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনরূপ তথ্য চাইলেও তারা দিতে চায়না। সাংবাদিকদের কোন প্রকার তথ্য প্রদান করা হলে তাদের বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ফাঁস হয়ে যাবে এ ধারণা থেকে তারা কোন তথ্য দেয় না। এছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়মের কথা সংবাদপত্রে প্রকাশ করার অভিযোগে অনেক সাংবাদিককে অতীতে মামলা ও গ্রেফতার বরণ করতে হয়েছে। প্রশাসনে যে কোন তথ্যের জন্যে গেলে তাদের সোজা কথা উপরস্থ অনুমতি ছাড়া দেওয়া যাবে না। এ প্রসঙ্গে সমাজকর্মী মামুনুর রশিদ বলেন, সাংবাদিকরা প্রশাসন ও জনগণের মাঝে মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে এবং প্রশাসনের তাই মনে রাখা উচিত। কিšদ তারা সাংবাদিকদের সাংবাদিক মনে না করে গোয়েন্দা মনে করে। এতে করে জনজীবনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অনেকাংশে ব্যাহত হয়।
সাংবাদিকের প্রশিক্ষণ যেন মালিকের অপচয়: সারাদেশে সাংবাদিকের সংখ্যার তুলনায় দক্ষ সাংবাদিকের পরিমাণ অত্যন্ত কম। স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকরা দক্ষতা উন্নয়নের জন্যে তেমন কোন প্রশিক্ষণের সুযোগ পায় না। আর এই অদক্ষতা জন্যেই স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদমূল্য নির্ধারণে অনেকাংশে ব্যর্থ হন। ফলে সংবাদ হওয়ার মত সংবাদও যথাযথভাবে উপস্থাপন হয় না। দৈনিক মাতৃভূমি নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি মিরন মহিউদ্দিন জানান, তৃণমূল পর্যায়ে প্রাত্যহিক জীবনে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, উন্নয়ন বিষয়ক হাজারো ঘটনা ঘটছে। আবার অনেক সুপ্ত ঘটনাই আছে যেগুলোর সাথে বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংশি¬ষ্ট। কিšদ প্রশিক্ষিণের অভাবে বর্তমানে অনেক সংবাদকর্মীই সে সকল ঘটনাকে এড়িয়ে চটক সংবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সাংবাদিকতার রয়েছে বিশাল ভূমিকা। এমন ঘটনাই আছে যেগুলো সংবাদপত্রে প্রকাশের পর জনগণ তার প্রতিকার পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রশিক্ষিত একজন সংবাদকর্মী বলেন, নোয়াখালীর স্থানীয় সংবাদপত্র লোক সংবাদ কোম্পানীগঞ্জে চর দখলকারীরা ৯টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, রায়পুরে মাছ ঘাট, বয়ারচরের উপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদকমূলক সংবাদ প্রকাশের পর সংশি¬ষ্ট সাধারণ মহল এ বিষয়ে প্রতিকার পেয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষও তাদের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছে। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সংবাদের রয়েছে শক্তিশালী অবদান। কিšদ অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের অভাবে স্থানীয় সংবাদ পত্র-পত্রিকায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের মধ্যে জনগণ, সংবাদপত্র ও প্রশাসনের সাথে সম্পর্কের প্রকৃতি যেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কিত ধারণার অভাব রয়েছে। সেই সাথে সমাজের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতার অভাবে সংবাদপত্রগুলো স্থানীয় জনতার দুঃখ দুর্দশা ও চাওয়া পাওয়ার মুখপাত্র হয়ে উঠছে না। জনগণও সে কারণে স্থানীয় সংবাদপত্রের মুখাপেক্ষী হয়ে উঠছে না।স্থানীয় কিছু উৎসাহী যুবক সাংবাদিক পরিচয়ে আনন্দবোধ করে বলে তারা স্থানীয় পত্রিকাদির সাথে জড়িত থাকে। কিšদ তাদের কোন প্রশিক্ষণ নেই। ফলে সংবাদপত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ উঠে আসে না। যদি সংবাদকর্মীদের প্রশিক্ষণ থাকতো এ সমস্যা হতো না। এ সমস্যা সমাধানের জন্যে পিআইবিসহ দু’একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মাঝে মধ্যে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জন্যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ ধরণের প্রশিক্ষণের জন্যে যে পরিমাণ অর্থ দরকার তা স্থানীয় অনেক পত্রিকারই নেই। আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠান পত্রিকার অর্থ যোগান দেবার সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশ্নে তারা অনীহা দেখায়। এ প্রসঙ্গে নোয়াখালীতে কর্মরত একটি জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদক বলেন, সংবাদকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে অর্থ খরচ করাকে মালিকপক্ষ অহেতুক অপচয় বলে মনে করে।
পত্রিকা নয় যেন তোষামোদনামা: সংবাদপত্রকে জনমানুষের মহামিলন কেন্দ্র বলা হলেও কিছু কিছু স্থানীয় সংবাদপত্র মাঝে মাঝে শিল্পপতির বায়না বা তোষামোদ করে প্রকাশিত হয়। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক মিরণ মহিউদ্দিন বলেন, আসলে এজন্যে আর্থিক দৈন্যতাই দায়ী। অর্থাভাবে সম্পাদক পত্রিকা প্রকাশ করতে অপারগ হলে কোন বিশেষ ব্যক্তির দ্বারস্থ হন। আর সে ব্যক্তির নিকট থেকে কোন প্রকার সাহায্য পেল তার পক্ষে হয়ত দু’এক কলম লিখে। যদিও তা মোটেই ঠিক নয়। মাঝে মাঝে দেখা স্থানীয় পত্রিকাগুলোর কোন কোনটি সংবাদপত্রের আদ্যোপ্রান্তে একজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার, জীবন বৃত্তান্তসহ কেবল একজন মানুষকে নিয়ে লিখে থাকে। এ ক্ষেত্রে পত্রিকাটি কিšদ উক্ত ব্যক্তির বিজ্ঞাপনপত্রে পরিণত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক বলেন, আসলে কিছু কিছু সম্পাদক আছেন তারা পত্রিকার নাম ভাঙিয়ে শিল্পপতিদের কাছ থেকে কিছু টাকা পয়সা নিয়ে একটি সংখ্যা বের করে উক্ত ব্যক্তির খানিকটা তোষামোদ করে। আর বাকী টাকা দিয়ে নিজের উদর পূজা করে। এতে করে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির শিকার হন। এ সকল কাজগুলো যে কোন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের বা সময়ের আগে ঘটে থাকে বলে সাধারণ মানুষ সে ব্যক্তির ইতিবাচক নেতিবাচক কোন খবরাদি না জেনে উক্ত ব্যক্তির প্রতি ঝুঁকে পড়ে। ফলে জনসাধারণ নেতা নির্বাচনের সময়ও শঠতার শিকার হন। নগর বার্তা বনাম পল¬ী বার্তা>বিপাকে পাঠক: রাজধানী থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো নানা রঙে প্রকাশিত হয় বলে পত্রিকাগুলোর প্রতি পাঠকের আগ্রহ থাকে খুব বেশি। স্থানীয় পত্রিকাগুলো লেটার প্রেসে হালকা ও ঝাপসা অক্ষরে ছাপা হয় বলে পাঠক পত্রিকার প্রতি তেমন আগ্রহী হয়ে উঠে না। গ্রামের একজন সাধারণ পত্রিকা পাঠক কামাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে সাধারণত কিছু হার্ড নিউজ থাকে। এছাড়া পাঠকের জন্যে আলাদা কোন বিভাগ থাকে না। কিšদ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোতে বিভিন্ন বিভাগ থাকে বলে তারা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারে। তাছাড়া স্থানীয় পত্রিকাগুলো মাঝে মাঝে জাতীয় পত্রিকাগুলোর নিউজ, প্রবন্ধ, কলাম পুনরায় ছাপিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন। স্থানীয় পত্রিকাগুলোর অন্যতম একটি পাঠক স্বল্পতা। স্থানীয় পত্রিকা বৈশিষ্ট্য ও গুণ ঠিকমত থাকে না বলে এ সমস্যা। পত্রিকা পাঠক কামাল উদ্দিন আরো বলেন, অনেকে শহরের চটক খবর পাঠে বেশি আগ্রহী। তারা সাধারণত খুটিয়ে খুটিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদ সম্পর্কে তারা জানতে চাইলে জানতে পারে কম। কেননা জাতীয় পত্রিকাগুলোতে মফস্বলের জন্যে মাত্র ২/১টি পাতা বরাদ্দ থাকে। তাতে ৬৮ হাজার গ্রামের ছবি ভেসে উঠে না। বাংলাদেশ প্রেস ইনিষ্টিটিউটের সাময়িকী নিরীক্ষা’য় (৫৮তম সংখ্যা ১৯৯২) প্রকাশিত রচনায় গবেষক সীমা মোসলেমের তথ্য মোতাবেক ঢাকা থেকে প্রকাশিত পাঁচটি জাতীয় দৈনিকে আট দিনের সংবাদ অংশের মধ্যে মফস্বল সংবাদে অংশ দৈনিক সংবাদ ৩৮.৯৮%. দৈনিক ইত্তেফাক ২০.৮৮%, দৈনিক ইনকিলাব ১৯.১৯%, দৈনিক বাংলা ১৭.৮৭%, বাংলাদেশ অবজারভাব ১২.৬১%। অথচ গ্রাম নিয়ে বাংলাদেশ। কিšদ জাতীয় পত্রিকায় গ্রামের জন্যে বা স্থানীয় খবরের জন্যে জায়গা খুব কম। গ্রামের পাঠক যেমন শহরের সংবাদের অন্বেষণ করে তেমনি শহরের পাঠক ও গ্রামের সংবাদের খোঁজে থাকে। কিšদ সংবাদ প্রকাশের যথাযথ উপায় না থাকায় দু শ্রেণীর পাঠকই হতাশ হন। স্থানীয় সংবাদপত্রের এ শূন্যতা সম্পর্কে সাপ্তাহিক ফয়সালার সম্পাদক বলেন, মফস্বলে রয়েছে প্রযুক্তিগত সমস্যা। স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো ছাপা হয় লেটার প্রেসে। এখানে আধুনিক অফসেট প্রেসও প্রযুক্তির রয়েছে অভাব। হাতিয়ায় নেই কোন প্রেস। ফলে সেখানকারপত্রিকাগুলো জেলা শহর থেকে সম্পাদকগণছাপিয়ে নিয়ে যান। পত্রিকা গুণগত মান ও বৈশিষ্ট্য ঠিক করা সম্ভব হলে স্বল্প পাঠক সমস্যা যেমন দূর হবে তেমনি পাঠককেও গ্রামের খবর শহরের খবর খুঁজতে হবে না। মান সম্মত পত্রিকা প্রকাশ হলেই মানুষের কেন্দ্রানুগ মানসিকতা লোপ পাবে। সম্পাদক ও সংবাদকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা । পত্রিকার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্থির করে স্থানীয় সমস্যা ও সমাধানের প্রতিবেদন উপস্থাপন সহ প্রশাসনিক যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করা দরকার। এছাড়া ডিএফপি বৈষম্যমূলক বিজ্ঞাপননীতি বদল করা যেতে পারে। স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্যে বিজ্ঞাপন দাতাদের উৎসাহীত করার দরকার। ১০ বছর পূর্বে প্রকাশিত পত্রিকা ডিএফপি অডিট গ্র“ফের আওতা থেকে মুক্ত করা যেতে পারে।

Monday, July 30, 2007

অভাব অনটন ভাগচাষীদের নিত্য সঙ্গী


সরকারি নিয়ম-নীতির বদলে গ্রামাঞ্চলে স্থানীয় রীতি মোতাবেক ভাগ চাষ হচ্ছে। এতে ভাগচাষীরা জমি মালিকদের কাছে শ্রম শোষণের শিকার হচ্ছেন।
ভাগচাষীদের উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক ও চাষীরা মোট শ্রমের অর্ধেক বিনা হিসেবে জমি মালিকের গোলায় চলে যায়। ভাগচাষীরা জমি মালিকদের ভূমিদাসে পরিণত হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে নোয়াখালীর অধিকাংশ জমি এক ফসলি জমিতে পরিণত হওয়ায় প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের বছরের বেশিরভাগ সময় বেকার থাকতে হয়। ফসলের মৌসুমে যে পরিমাণ কাজের লোক দরকার তার চাইতে বেশি পরিমাণ বেকার লোক পাওয়া যায়। ফলে গ্রামে কৃষিকাজের জন্য শ্রম বিক্রি করার সুযোগ থাকে না বিধায়ও অনেকে ভাগচাষ করে।
ফসল ওঠার পর ভাগচাষীরা উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক জমি মালিকদের ঘরে পৌঁছে দেয়। আর ভাগচাষীরা ফসলের উৎপাদন খরচ ও উৎপাদনের পেছনে ব্যয়িত শ্রমের বদলে অর্ধেক ফসল পায়। জমির মালিক জমি কেনার সময় মূলধন জাতীয় কাজের বিনিময়ে ভাগচাষীর উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক ও ভাগচাষীর মোট শ্রমের অর্ধেক নিজের গোলায় ওঠিয়ে নেয়। অথচ ভাগচাষীদের এ শ্রমের কখনো মূল্য নির্ধারণ হয় না। এতে ভাগচাষীরা ফসল উৎপাদন মৌসুমে অন্যত্র শ্রম বিক্রি না করে ভাগের ফসলের আশায় বসে থাকার ফলে বছরের অধিকাংশ সময় অভাবে থাকতে হয়। এ অভাব ঘোচানোর জন্য অনেক ভাগচাষী মহাজনি ঋণ ও ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করেন। এক সময় ঋণের জটিল চক্রে জড়িয়ে কৃষকদের me©¯^vš— হতে হয়।
১৯৮৪ সালে জারিকৃত ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশের ভাগচাষীদের ¯^v_© সংরক্ষণের যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভাগচাষীদের শ্রম শোষণের হাত থেকে কিছু রক্ষা সম্ভব। নোয়াখালীর ভাগচাষী, জমি মালিক, স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপে এ তথ্য পাওয়া যায়।
গ্রামাঞ্চলে যাদের কোনো জমি নেই তারা অন্যদের জমি ভাগে বা বর্গা চাষ করে। এছাড়াও যাদের জমি কম এবং যারা ইতোপূর্বেও কৃষক ছিলেন কিন্তু বিভিন্ন কারণে জমি বিক্রি করে ফেলেছেন তারাও অন্যদের জমি ভাগ চাষ করে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, নোয়াখালীর একেক এলাকায় একেক নিয়মে ভাগ চাষ হয়ে থাকে। বড়রামদেবপুর আইপিএম ক্লাবের সহ-সভাপতি মাইন উদ্দিন জানান, যদি উৎপাদন খরচের অর্ধেক চাষী ও অর্ধেক মালিক দেয় তাহলে ফসল ভাগের সময় তা অর্ধেক অর্ধেক হয়। আবার উৎপাদনের সময় হালের খরচ, সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদির খরচ চাষী দিলে উৎপাদিত ফসল তিনভাগ হয়। তিন ভাগের দুই ভাগ চাষী ও একভাগ জমির মালিক পায়। চাটখিলের মোহাম্মদপুর গ্রামের শাহ আলম জানান, চাটখিল উপজেলার কিছু জায়গায় ভাগচাষী ফসল চাষের সময় সার, বীজ, কীটনাশক, হালের খরচ সব দেয়। তারপর ফসল উঠলে জমির মালিক ফসল উৎপাদন খরচ বাবদ কিছু ধান ভাগচাষীকে দিয়ে দেয়। বাকি ফসল দু ভাগ করে একভাগ ভাগচাষী ও অন্যভাগ মালিক নিয়ে যায়। চাটখিলের শোল­া গ্রামের বেলাল জানান, জমির মালিক পানি সেচ খরচ অথবা সারের খরচ দেয়। বাকি সব খরচ ভাগচাষীকেই দিতে হয়। কিন্তু ফসল ভাগ দুই ভাগেই হয়।

সোন্দলপুরের আবুল হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার কিছু অংশে আরেক নিয়ম আছে। সেটি হলো যে জমিতে ধান ও রবিশস্য ফলে সেগুলো আর্থিক মূল্যে বর্গা দেওয়া হয়। যেমন জমিতে ধান আবার শীতে সবজি চাষ করা হয়। জমির মালিক একজনের কাছে জমিতে বর্গা দিয়ে বলেন, এ জমি থেকে তুমি বছরে যা উৎপাদন কর তা তোমার বিষয়। তবে আমাকে বছরে দুই হাজার টাকা দিতে হবে। এভাবে টাকা পরিশোধের মাধ্যমেও গ্রামাঞ্চলে ভাগ চাষ হয়ে থাকে। তবে এ জাতীয় চাষকে ঠিকা চুক্তিতে চাষও বলা হয়। অনেকে জানান, কৃষির কোনো উন্নতি ব্যতিরেকে বর্তমানের নিম্ন উৎপাদনে এই চুক্তিতে মালিকদের সুবিধা ভাগ চাষের চেয়ে বেশি।
ভাগচাষের জন্য একটি চুক্তি থাকার নিয়ম থাকলেও তা গ্রামাঞ্চলে মানা হয় না। বর্গাচাষী হোসেন মিয়ার গ্রাম সোন্দলপুরে। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় কোনো চুক্তি হয় না। মালিক মুখে বলে দেয় চাষ করার জন্য। এভাবে ভাগচাষীও চাষ করে।
শোল­া গ্রামের বেলাল জানন, জমি মালিকও ভাগচাষী একই গ্রামের হওয়াতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু কোনো কারণে যদি দুজনের মধ্যে কোনো রকম সমস্যা দেখা দেয় তখন চুক্তির দরকার হয়। কিন্তু সে সময় চুক্তিও থাকে না। ফলে জমির মালিক যা বলে তাই হয়।

লিখিত চুক্তির বিষয়ে জানতে গিয়ে দেখা যায়, জমি মালিক ও ভাগচাষী উভয়ই বিষয়টি হালকা চোখে দেখে। বিশেষত জমির মালিকরা মনে করেন, আমার জমিন আমি বর্গা দেব, তাতে চুক্তি করব না।
অনেক ভাগচাষী চুক্তি করার নিয়মের কথা জানলেও তারা তা বলে না। এ না বলার পেছনে এক ধরনের ভয় কাজ করে। কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, গ্রামের অনেকে জমি ভাগ চাষ করতে চায়। তাই কোনো ভাগচাষী মালিকের সাথে তর্ক করলে জমি হাতছাড়া হতে পারে। এজন্যও অনেকে চুক্তির কথা তোলে না।
বড়রামদেবপুরের এনায়েত বলেন, বর্গাচাষীরা এ এলাকায় এক সময় জমি মালিকদের প্রায় সমান তালে চলতে পারত। দেখা যেত একজন ভাগচাষী কয়েকবার একটি জমি চাষ করছে। কিন্তু বর্তমানে জমি মালিকরা বারবার জমি হাত বদল করছে। বিক্রি করছে। এজন্য ভাগচাষীরা আগামী বছর জমি পাবে কী না ? জমি এ মালিকের কাছে থাকে কীনা এ জাতীয় একটি ভয়ের মাঝে থাকছে।
ভাগচাষের ফলে চাষীরা মূলত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সদর উপজেলার সোন্দলপুর ও চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের কয়েকজন ভাগ চাষী জানান, গ্রামে বৌ-ছেলে নিয়ে থাকি। অন্য সময় বদলা দেই তাই ‘বাগা’ চাষ করি। কিন্তু এ চাষে লাভ নেই।
জমি মালিক ১০ গন্ডা জমি ভাগ চাষে দিলে তিনি কোনো খরচ দেন না। সমস্ত খরচ দিতে হয় ভাগচাষীকে। ১০ গন্ডা জমি হালচাষ ৫০০ টাকা, বীজ ৩০০ টাকা, ঘাস বাছাই ৪০০ টাকা, বীজ উৎপাদন ২০০ টাকা, সার, কীটনাশক ২৫০ টাকা, পানি সেচ ৮০০ টাকা, কাটাই মাড়াই ৩০০ টাকা। অর্থাৎ ১০ গন্ডা জমির পেছনে একজন ভাগচাষীকে প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়াও ভাগচাষী ফসল লাগানো থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা নাগাদ প্রতিদিন গড়ে ৩/৪ ঘন্টা করে জমিতে কাজ করে। এ কাজের দাম কখনো হিসাব করা হয় না। কিন্তু ফসল উৎপাদন শেষে ফসল ভাগের সময় যে পদ্ধতিতেই ভাগ করা হোক না কেন ভাগ চাষীর এ শ্রমের অর্ধেক জমি মালিকের কাছে চলে যায়। কিন্তু ১০ গন্ডা জমিতে ধান পাওয়া যাবে ২০ মন। বাজার দর মনপ্রতি ২৫০ টাকা হারে হবে পাঁচ হাজার টাকা। ভাগচাষী পাবে ২৫০ টাকা। তাতে দৃশ্যত লাভক্ষতিতে ভাগচাষীর ৫০০ টাকা ক্ষতি হয়।
আবার জমি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করছে বলে যে জমির দামও কমে যাচ্ছে তাও নয়। তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, প্রত্যেক এলাকায়ই যে জমির আগে প্রতি একরের দাম ছিল ৫০ হাজার এখন তা ৬০/৭০ হাজার টাকা হচ্ছে। ফলে জমি মালিককে সে দিকেও ঠকতে হয় না। এ প্রসঙ্গে শোল­া গ্রামের বেলাল বলেন, এত হিসাব করার সময় কৈই? ধান যা পাই তা ভাগ করে দিয়ে দেই। জমি মালিক মাওলানা নুর ইসলাম বলেন, যে চাষ করবে সে তো শ্রম দিবেই এতে হিসাব অথবা ক্ষতির কি আছে।

ভাগচাষের সুফল-কুফল
ভাগচাষের সুফলের কথা বলতে গিয়ে সদর উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের বড়রামদেবপুরের আবুল হোসেন জানান, ভাগচাষের ফলে ধনী কৃষকদের লাভ হয়। একদিকে তাদের কোনো জমি পতিত পড়ে থাকে না। অন্যদিকে নিজেরা জমি চাষ করলে যে ঝুঁকি থাকে ভাগচাষী করলে সে ঝুঁকি তাদের নিতে হয়। ফলে কোনোরূপ খরচাপাতি ছাড়া তারা ফসল পেয়ে থাকে।
তিনি আরো জানান, ভাগচাষের যে প্রথা তাতে চাষীরা উৎপাদনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। দেখা যায়, ভাগচাষীদের পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসলের বিরাট একটি অংশ মালিককে দিতে হয়। এতে ভাগচাষীরা উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
ভাগচাষের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় জমির। বড়রামদেবপুরের অলি উল্যাহ বলেন, ভাগচাষের ফলে জমির মান কমে যায়। ভাগচাষী আগামী বছর জমি চাষ করতে পারবে কি পারবে না তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। ফলে জমির কোনো উন্নয়ন করে না। অন্যদিকে ভাগচাষী মনে করে এ বছরই যা ফসল ফলানো যায় তাই লাভ, এ চিন্তা করে জমিতে বেহিসেবে সার কীটনাশক প্রয়োগ করে। ফলে জমির গুণগত মান কমে যায়।

ভাগচাষের সরকারি নীতি
১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অর্ডিন্যান্স (আইন) এ ভাগচাষীদের ¯^v_© সংরক্ষণে কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। ভাগ চাষের সংস্কারের জন্য ঘোষিত ব্যবস্থাসমূহের মধ্যে নিম্নলিখিতগুলো উলে­খযোগ্য।
১। জমির মালিক ও ভাগচাষীর মধ্যে ন্যূনতম পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য একটি লিখিত চুক্তি থাকবে। এ মেয়াদের মধ্যে ভাগচাষীকে চাষাবাদ থেকে বিরত রাখা যাবে না। তবে চুক্তির শর্ত যদি ভাগচাষী দ্বারা লঙ্ঘিত হয় সে ক্ষেত্রে জমির মালিক ভাগচাষীকে অবশ্যই জমি চাষাবাদ থেকে বিরত রাখবে।
২। কোনো ভাগচাষী ১৫ বিঘা পর্যন্ত জমি চাষাবাদ করতে পারেন।
৩। মালিক বর্গায় প্রদত্ত জমি বিক্রি করতে চাইলে তা ক্রয়ের সুযোগ প্রথমে ভাগচাষীকে দিতে হবে।
৪। বর্গার প্রদত্ত জমির উৎপাদিত ফসল তেভাগা নীতিতে বন্টন করতে হবে। অর্থাৎ উৎপাদিত ফসলের এক তৃতীয়াংশ জমির মালিক, এক তৃতীয়াংশ ভাগ চাষী ও এক তৃতীয়াংশ পাবে উপকরণ সরবরাহকারী। যদি উপকরণ জমি মালিক ও ভাগচাষী যৌথভাবে প্রদান করে তবে ফসল ৫০:৫০ হিসেবে জমি মালিক ও ভাগচাষীর মধ্যে বন্টিত হবে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে ২০ জন কৃষকের সাথে আলাপে ১৭ জন জানান, তারা ভাগচাষে সরকারি নীতি সম্পর্কে জানেন না। তিনজন বলেছেন তারা জানেন কিন্তু জমি মালিকরা যেভাবে বলেন সেভাবে চাষ করতে হয়।

মালিক ও ভাগচাষী দ্বন্দ্ব
সরেজমিন পরিদর্শনে অনেক কৃষক বলেন, জমি মালিক ও ভাগচাষীর মধ্যে বর্তমানে দ্বন্দ্ব খুবই কম। তবে চাটখিলের মোহাম্মদপুর গ্রামের বেলাল বলেন, ফসল ভাগের সময় সাধারণত দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ফসল চাষের সময় জমি মালিকরা কোনো উপরকণ দেয় না। সেগুলো চাষীকেই দিতে হয়। ফলে ফসল ভাগের সময় তিনভাগে ভাগ করার কথা থাকলেও জমি মালিক দু ভাগে ভাগ করে নিজে এক ভাগ নিয়ে যায়। এতে দু পক্ষের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
আবার একই গ্রামের শাহ আলম বলেন, আমি ভাগচাষী। চাষাবাদে তেমন লাভ হয় না। কিন্তু তারপরও চাষ করি ধানের খড়গুলো দিয়ে ঘরের চাল ছানি দিব এ আশায়। কিন্তু জমি মালিক তাও নিয়ে যায়। এ কারণে তার সাথে আমার তর্ক হয়। এরপর থেকে আমি আর ভাগচাষ করি না।

সুপারিশ
সরকারের সংশি­ষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমি মালিক ও ভাগচাষীদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন কিংবা মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা। ভাগচাষীকে জমি চাষে ¯^vaxbZv দেওয়া এবং ভূমি সংস্কার নীতি বাস্তবায়ন করে ভূমিহীন চাষীদের মাঝে খাসজমি বিতরণ করলে ভাগচাষীদের জীবন মানের উন্নয়ন সম্ভব বলে সরেজমিন পরিদর্শনে ভাগচাষী ও জমি মালিকরা জানান।